ভ্যাট আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে সৃষ্ট ভুল ও কর দায় নিরুপণের বিশ্লেষণ

ভ্যাট আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে সৃষ্ট ভুল ও কর দায় নিরুপণের বিশ্লেষণ
একটি কোম্পানি বানিজ্যিক আমদানিকারক হিসাবে ভ্যাট রিটার্ন সাবমিট করে,কোম্পানিটি পণ্য বিক্রয়ের সময় ১৫% বিক্রয় ভ্যাট ধরে মূসক-৬.৩ ইস্যু করে। পক্ষান্তরে বানিজ্যিক আমদানিকারক হিসেবে আমদানির বিপরীতে ভ্যাট রিবেট নেয় এবং অগ্রিম কর (এ টি) সমন্বয় করে। বানিজ্যিক আমদানিকারক হিসাবে মূসক-৪.৩ ঘোষনা করে এবং মূসক-৬.২.১ এ যথাযথ ভাবে লিপিবদ্ধ করে।

ধরে নেওয়া যাক প্রতিষ্ঠানটি একটি পণ্য আমদানি করে যার ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা।
সুতরাং আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট পরিশোধ করে ১০০ x ১৫%=১৫ টাকা এবং অগ্রিম কর (এ টি) পরিশোধ করে
১০০ x ৫%=৫ টাকা
সুতরাং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত কর (১৫+৫)=২০ টাকা।

কোম্পানিটি মূসক-৪.৩ এর মাধ্যমে উক্ত পণ্যটির মূল্য ঘোষণা করে ১০০+(১০০ x ৩৩.৩৪%)=১৩৩.৩৪ টাকা।
সুতরাং উক্ত পণ্যটির বিক্রয় ভ্যাট দাঁড়ায় ১৩৩.৩৪ x ১৫% =২০ টাকা।
কোম্পানিটির বিক্রয়ের উপর ভ্যাট ২০ টাকা এবং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত কর ২০ টাকা।
সুতরাং কোম্পানিটির ভ্যাট দেনার পরিমাণ ২০-২০=শূন্য টাকা।

সুতরাং বুঝা যায় যে একজন বানিজ্যিক আমদানিকারক যথাযথ ভাবে মূসক-৬.৩, মূসক-৬.10, মূসক-৪.৩, মূসক-৬.২.১ যথাযথভাবে পরিপালন করায় কোম্পানিটির ভ্যাট দেনার পরিমাণ শূণ্য দাঁড়ায়।

পক্ষান্তরে একটি ভিত্তিহীন পত্র প্রাপ্তির মাধ্যমে ভ্যাট প্রিভেন টীম প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে একটি চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের চুক্তিপত্র, অডিট রিপোর্ট, মূসক-৬.২.১, মূসক-৪.৩, মূসক-৬.৩ জব্দ করে।

পরবর্তীতে সবগুলো আড়াআড়ি যাচাইবাচাই এর মাধ্যমে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়
১। প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করে।
২। বাণিজ্যিক আমদানিকারক হিসাবে দাখিলকৃত ভ্যাট রিটার্ন সমূহ ভুলভাবে দাখিলকৃত প্রমাণিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের মূসক-৬.২.১, মূসক-৪.৩ এবং মূসক-৬.৩ সবগুলো ভুল প্রমাণিত হয়।

প্রতিষ্ঠানের নিকট ব্যাখ্যা জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি জানায় আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের নিয়ম সমূহ পালন করতে পারেনি। পরবর্তীতে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী হিসেবে আড়াআড়ি যাচাইবাচাইয়ের ফলে,এটা প্রমাণিত হয় প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র পণ্য উৎপাদনের জন্য যে সেবা সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র উক্ত সেবার উপর ভ্যাট দেনার পরিমাণ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিক্রয় ভ্যাটের পরিমাণের সাথে রিবেট এবং অগ্রিম কর (এ টি) সমন্নয়ের পর ভ্যাট দায় শূণ্য দাঁড়াবে।

ধরে নেওয়া যাক প্রতিষ্ঠানটি একটি পণ্য আমদানি করে যার ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা।
সুতরাং আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট পরিশোধ করে ১০০ x ১৫%=১৫ টাকা এবং অগ্রিম কর (এ টি) পরিশোধ করে
১০০ x ৫%=৫ টাকা
সুতরাং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত কর (১৫+৫)=২০ টাকা।

কোম্পানিটি মূসক-৪.৩ এর মাধ্যমে উক্ত পণ্যটির মূল্য ঘোষণা করে ১০০+(১০০ x ৩৩.৩৪%)=১৩৩.৩৪ টাকা।
সুতরাং উক্ত পণ্যটির বিক্রয় ভ্যাট দাঁড়ায় ১৩৩.৩৪ x ১৫% =২০ টাকা।
কোম্পানিটির বিক্রয়ের উপর ভ্যাট ২০ টাকা এবং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত কর ২০ টাকা।
সুতরাং, কোম্পানিটির ভ্যাট দেনার পরিমাণ ২০-২০=শূন্য টাকা।

এতে বুঝা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটি যদি মূসক-৬.৩, মূসক-৬.10, মূসক-৪.৩, মূসক-৬.১, মূসক-৬.২ এবং মূসক-৬.৪ যথাযথভাবে পরিপালন ও লিপিবদ্ধ করতে পারতো প্রতিষ্ঠানের উপর কোন ভ্যাট দায় সৃষ্টি হতো না। প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র সেবা গ্রহণের বিপরীতে মূসক পরিশোধ করতো।

এক্ষেত্রে আরো বুঝা যায়, যদি সেবা গ্রহণের মূসকটি যদি মূসক-৪.৩ এ ঘোষনা করে রিবেট নিতো তাহলে ভ্যাট দায়ের পরিমাণ শূণ্যই হতো।

এতে বুঝা যায় যে, যথাযথভাবে আইন না জানা এবং অদক্ষ কর্মীদ্বারা পরিচালার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্যাট দায় সৃষ্টি হয়।

X
Scroll to Top